আদিবার সাথে পরিচয় আমার হঠাত্ করেই। বইমেলাতে। আমি একটা মেডিকেল কলেজে পড়ছি আর আদিবা বয়সে ছোট,নাইনে পড়ছে। একুশের বইমেলায় গিয়েছিলাম কিছু ভালো কবিতার বই খুজঁতে। পেয়েও যাই। বইয়ের দাম মিটিয়ে পিছন ফিরে চলে যাওয়ার সময় হঠাত্ বইয়ের এক কোনা এসে লাগে আদিবার চোখে। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো। আমি বুঝতে পারছিলাম না মেয়েটা কাদঁছে কিনা! আমি মেয়েটাকে সরি! বলতেই খেপে গেলো সে। খুব কষ্টে তাকে বোঝাতে পারলাম ওটা ইচ্ছে করে দেই নি। তারপর যখন আমি তার নাম জানতে চাইলাম, সে খুবই অবাক হলো,সে বলল,কেন?
-খুব জানতে ইচ্ছে করছে। আর আপনাকে কষ্ট দিয়ে আমার নিজের ই খুব খারাপ লাগছে। তাই ইচ্ছে করছে আপনার সাথে পরিচিত হতে। একথা গুলো বলে মাথা নিচু হয়ে দাড়িয়ে রইলাম আমি। ও বলল চলুন ওই কফি শপে গিয়ে বসি। আমি অবাক হয়ে বললাম চলুন।
মেয়েটার নাম আদিবা। খুব মিশুক ধরনের। তার মাঝে খুব বাচ্চামী খুব কাজ করে। কফি শপে আমরা আড্ডা দিলাম অনেক দিনের পুরানো বন্ধুর মত। আমি মেডিকেলে পড়ছি শুনে সে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠলো। আমার ফোন নম্বর টাও চেয়ে নিলো সে। বন্ধুত্ব টা হয়ে গেলো সেদিন থেকে।যদি তার মাঝে ভালোবাসা উকিঁ দিচ্ছিলো।
ছয় মাস কেটে গেলো। কিভাবে বলব তাকে? কোন উপায় পাচ্ছি না। একদিন একটা চিঠি লিখলাম ওকে। সাথে পাচঁটি লাল গোলাপ আর একটা চকলেটের প্যাকেট। আমি জানতাম না সেদিন ওর জন্মদিন ছিলো। মুখে বলতে কিছু সাহস হচ্ছিলো না। ও আমাকে ওর বাসার নিচে আসতে বললো। আমি এসে ওকে এসব দিলাম, সে খুবই অবাক হলো, সে বললো আমি তো তোমাকে আজকে যে আমার জন্মদিন সেটা বলি নি। আমি তো হতভম্ব। তাকে তবে বুঝতে দেই নি। রহস্যময় একটা হাসি উপহার দিয়ে বিদায় নিলাম।
তার বাসা আর আমার বাসা খুব কাছে ছিলো তাই প্রতিদিন ভোর বেলা দেখা করতাম আমরা। ও বারান্দাতে আর আমি নিচে। ফোনে কথা হতো। তো পরদিন আসলাম, ও বারান্দাতে এসেই আমার চিঠিটা ছিড়েঁ শত টুকরা করে বাইরে ফেলে দিলো। আমার বুকে হার্টবিট বেড়ে গেলো। সেদিন আর কোন কথা হলো না। রাতে ফোন দিলো তবে ধরলাম না। যাই হোক ম্যাসেজ দিলো আমি যেন কাল সকালে তার স্কুলের সামনে থাকি। দেখা হলো ওর সাথে। ও জানালো কোন প্রমাণ না রাখতেই সে ছিড়েঁ ফেলেছিল চিঠি টা। বাবা মার হাতে ধরা পড়ার ভয়ে। সে জানালো সেও আমাকে ভালোবাসে। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাপঁছিলো। আমি তাকে জড়িয়েও ধরলাম। আমি আমার মুখ তার কানের কাছে নিয়ে বললাম এই হাত আর ছাড়বো না।
♥ ।।সত্যি বলছি খুব ভালোবাসি তোমাকে।। ♥
তিনবছর হলো আমাদের সম্পর্কের। কিন্তু মনে হয় এই তো সেদিন! ভালোবাসায় পরিপূর্ন আমাদের বন্ধন যেন ভালোবাসায় বাধাঁ।
লিখেছেন – Nil Akasher Doorbin

আলোচনা
কোন মন্তব্য নেই এখনও